সাতক্ষীরা

উদারতা যুব ফাউন্ডেশন দিল ৮০ পরিবারে লবণ সহিষ্ণু চারা

  ডেস্ক রিপোর্ট ৬ আগস্ট ২০২৫ , ২:০০:৫২ অনলাইন সংস্করণ

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজনমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উদারতা যুব ফাউন্ডেশন। ৫ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শ্রীউলা ইউনিয়নের ৮০টি পরিবারের মাঝে লবণাক্ততা সহিষ্ণু বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

বিতরণকৃত ফলজ চারা ছিল—আম, দেশি কুল, মাল্টা, কাগুচি লেবু ও পেয়ারা। এসব চারা উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত মাটি ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম, ফলে টেকসই কৃষির পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের আহম্মেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তর, আশাশুনি উপজেলার সহকারী পরিদর্শক সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল। তিনি চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে বলেন,
“লবণাক্ত সহিষ্ণু চারা বিতরণের এই উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি উপকূলীয় কৃষি ও পরিবারভিত্তিক খাদ্যনিরাপত্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জুবায়ের আহম্মেদ বলেন,“উপকূলীয় জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তাই তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে আমরা ফলজ চারা বিতরণ করছি। শুধু চারা নয়, আমরা টেকসই ভবিষ্যতের বীজ বপন করছি।”

চারা বিতরণ কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন উদারতার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আমিন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আবু তাহের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন, ফুয়াদ, সুমাইয়া, সোহেল, হারুন, আকাশ, হারান, সুমন প্রমুখ।

স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, লবণাক্ততার কারণে এতদিন ফলদ গাছ টেকত না, তবে এবার তারা লবণ সহনশীল জাতের চারা পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের কার্যক্রম উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজায়ন, পুষ্টি ও জীবিকার ক্ষেত্রেও বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, উদারতা যুব ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকার সামাজিক-পরিবেশগত উন্নয়নে কাজ করে আসছে। জলবায়ু অভিযোজনমুখী এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

আরও খবর