সুন্দরবনে শিকার করা ১১০ কেজি হরিণের মাংস পাচারকালে ১ শিকারী আটক

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
HridoyBarta

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জ ও নলিয়ান কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ১১০ কেজি হরিণের মাংস সহ আরিফুল সরদার (২৫) নামের এক হরিণ শিকারীকে আটক করেছে। সে দাকোপ উপজেলার কালীনগর গ্রামের কিনারুল সরদারের পুত্র।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে দাকোপের ঠাকুরবাড়ি খেয়াঘাট এলাকা হতে অভিযান চালিয়ে এই হরিণের মাংস সহ তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা আরও ৪ জন হরিণ শিকারী পালিয়ে যায়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী মোঃ ইসমাইল হোসেন, কালাবগী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ মজুমদার, সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান মিজানুর রহমান, নলিয়ান কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার রাজু আহমেদ সহ বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা ছন্মবেশে মাছ শিকারের আড়ালে হরিণ ধরার ফাঁদ পেতে সুন্দরবনে নির্বকারে হরিণ শিকার করছে। পরে বন বিভাগের সদস্যদের চোখ ফাকি দিয়ে ফাঁদে আটকানো হরিণ জবাই করে মাংস কেটে লোকালয়ে এনে বিক্রি করছে। তবে হরিণ শিকার বন্ধ না হলে প্রকৃতির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুন্দরবনে হরিণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শিকার করায় পরিবেশের জৈবিক চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে।
সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত বনাঅঞ্চলের হরিণ শিকার করা সেখানকার জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ক্ষতি। পরিবেশগত পরিবর্তন এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।

খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, একটি সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারী চক্র সুন্দরবন হতে হরিন শিকার করে তা বিক্রির জন্য লোকালয় নিয়ে যাচ্ছে গেপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন সংবাদ পাওয়ার পর বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তা আটক করতে সক্ষম হই।
এব্যাপারে সুতারখালী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃত আরিফুল সরদার তার সাথে থাকা ৪ শিকারীর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারমতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ছাড়া আটককৃত হরিণের মাংসের ব্যাপারে বন্যপ্রানী নিধন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন