মাছ চুরি ঠেকাতে গিয়ে যুবককে হাত-পা ভেঙে দিল প্রতিপক্ষরা

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:২৫ অপরাহ্ণ
HridoyBarta

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের রামভাদ্রপুর গ্রামে পুকুর থেকে মাছ চুরি করতে নিষেধ করা ও পুকুরের পাড় কেটে পানি নামানোর পথে বাধা দেওয়ায় এক যুবককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। নিহত ভেবে ধানক্ষেতে ফেলে যাওয়া ওই যুবক বর্তমানে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ০৫ সেপ্টেম্বর সকালে।

গুরুতর আহত ওই যুবকের নাম মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি রামভাদ্রপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিম ঢালীর ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় আহতের পিতা মো. ইব্রাহিম ঢালী গত ০৯ সেপ্টেম্বর কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নেদু সিরাজ গাজীর ছেলে মো. খলিল গাজী, মো. আলিম গাজী এবং আলিম গাজীর ছেলে মো. হাফিজুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম ঢালীর পুকুর থেকে প্রায় সময় মাছ চুরি করত খলিল গাজী ও আলিম গাজী। কয়েকদিন আগে তাদের হাতেনাতে ধরে নিষেধ করেন ইব্রাহিম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরে ইব্রাহিমের পুকুরের পাড় কেটে পানি অপসারণের চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা ইব্রাহিম ঢালীকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যাওয়ার সময় হাফিজুল ইসলাম হুমকি দেয় সুযোগ বুঝে ইব্রাহিম ও তার ছেলে ইলিয়াসকে হাত-পা ভেঙে হত্যার চেষ্টা করবে।

এর তিন দিন পর, ০৫ সেপ্টেম্বর সকালে একা পেয়ে ইলিয়াস হোসেনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাফিজুল, তার পিতা আলিম ও চাচা খলিল। এলোপাতাড়ি মারপিটে ইলিয়াসের দুটি পা ও একটি হাত ভেঙে যায় এবং বুকে আঘাত পেয়ে প্লিহা নষ্ট হয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে মৃত ভেবে ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন ইলিয়াসকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পরীক্ষায় জানা যায়, বুকে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে ইলিয়াসের প্লিহা ফেটে গেছে। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার প্লিহা অপসারণ করেন।

ভুক্তভোগীর বাবা মো. ইব্রাহিম ঢালী বলেন, “সন্ত্রাসী হাফিজুল, তার বাবা আলিম ও চাচা খলিল আমার ছেলেকে মেরে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। তাদের মারধরের কারণে ছেলের বুকে প্রচণ্ড আঘাত লেগে প্লিহা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা ভেবেছিল আমার ছেলে মারা গেছে, তাই ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলাম বর্তমানে জেলহাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপর আসামি খলিল গাজী ও আলিম গাজীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইতিমধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর আছে। ভুক্তভোগীর গুরুতর জখম হওয়ার বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি বর্তমানে খুলনায় চিকিৎসাধীন আছেন।”

বিজ্ঞাপন