যুগিখালী-বামনখালী সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ণ
HridoyBarta

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী বাজার থেকে বামনখালী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পিচঢালা সড়কটির অধিকাংশ স্থানই এখন ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে কাদা, বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যুগিখালী বাজার থেকে বামনখালী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বও যেন খুঁজে পাওয়া কঠিন। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের ভাঙা অংশগুলোতে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাদার স্তর। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কর্দমাক্ত সড়কে চলাচলের সময় প্রায়ই মোটরসাইকেল স্লিপ করে পড়ে যায়। এতে চালক ও আরোহীরা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদেরও প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহনের চাকা কাদায় আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সড়কটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়, এ পথ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বর্তমান বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে সড়কটি কার্যত সংস্কারহীন পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে সামান্য ক্ষতিগুলো ক্রমে বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে অসুস্থ ও জরুরি রোগীদের। স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে এই সড়ক বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ভাঙাচোরা ও কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রোগী বহনকারী যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সময়ক্ষেপণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে মাটি বা ইট ফেলে সড়কটি চলাচলযোগ্য করার পরিবর্তে টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রæত সংস্কার না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ যুগিখালী-বামনখালী সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কের বেহাল দশা দূর করে স্থায়ীভাবে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

বিজ্ঞাপন