“৩১ দফা বাস্তবায়নেই উপকূলের ভাগ্য বদলাবে”
মন্দিরের চত্বরে সারি সারি প্রদীপের আলো, বাতাসে শঙ্খধ্বনি, দূরে শোনা যাচ্ছে ঢাক-ঢোলের বাজনা। পূজার আনন্দে যেন মিশে গেছে সমুদ্রের লবণাক্ত হাওয়া। এই পরিবেশেই হঠাৎ হাজির হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ও জেলা আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল।
তিনি আসতেই ভিড় জমল মন্দির প্রাঙ্গণে। কেউ মালা পরিয়ে দিল, কেউ হাত মেলাল, কেউ আবার সোজাসুজি বলল দুঃখ-দুর্দশার কথা। অসীম কুমার দাঁড়িয়ে রইলেন সবার মাঝখানে—রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং এলাকার ছেলে হয়ে।
মৎস্যজীবী শিবপদ বিশ্বাস বললেন, “সাগরের জলোচ্ছ্বাসে সব ভেসে যায়, কিন্তু সরকারের নজর খুব কমই আসে এখানে। অসীম বাবু অন্তত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই বড় ভরসা।”
গৃহিণী কল্পনা রানী, “লবণাক্ত পানির জন্য আমরা শাকসবজি পাই না, নুন ছাড়া খাবার খেতে হয়। পূজার রাতে আনন্দ করি, কিন্তু বুকের ভেতর কষ্ট লুকানো থাকে। আজ তিনি এসে আমাদের কষ্ট শুনলেন, মনে হলো—আসলেই কেউ আমাদের নিয়ে ভাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় আর অবহেলায় গাবুরা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুশান্ত মণ্ডল বলেন, “আমরা কাজ চাই, পড়াশোনার সুযোগ চাই। অসীম স্যার বললেন, তারেক রহমানের ৩১ দফায় কর্মসংস্থান আর শিক্ষার বড় পরিকল্পনা আছে। যদি সত্যি সেটা হয়, তাহলে হয়তো আমরাও একদিন স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।”
মঞ্চ নেই, মাইক নেই। শুধু মন্দিরের উঠোনে দাঁড়িয়ে অসীম কুমার মন্ডল সরাসরি মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন, তা অন্ধকার দূর করছে। কিন্তু মনে রাখবেন—এই আলো কেবল মন্দিরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমাদের জীবনেও আলো আনতে হবে। তাই আমি বলি—উপকূলের মানুষ যদি বাঁচে, বাংলাদেশই টিকে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেটা কোনো স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতার নকশা। ধানের শীষ প্রতীক শুধু একটি ভোটের চিহ্ন নয়, এটি মানুষের মুক্তির প্রতীক। আমি চাই গাবুরার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুক—আমরা উন্নয়ন চাই, আমরা পরিবর্তন চাই।”
তিন বলেন, “আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়। আমি চাই আপনাদের চোখের জল মুছাতে, আপনাদের কষ্টের ভাগ নিতে। হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে এই উপকূলকে রক্ষা করতে হবে। উৎসব যেমন আমরা একসাথে করি, তেমনি উন্নয়নও হবে সবার জন্য।”
স্থানীয়দের মতে, অসীম কুমারের এই সফর ছিল রাজনীতির নতুন ধারা। তিনি বক্তৃতার মঞ্চে না দাঁড়িয়ে মানুষের মাঝখানে বসেছেন, উৎসবের ভিড়ে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তার কথা ছিল সহজ, আবেগী, এবং প্রত্যেকটি বাক্যে ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
একজন প্রবীণ পূজারি বলেন. “এমন কথা আগে কোনো রাজনীতিবিদের মুখে শুনিনি। মনে হলো তিনি আমাদেরই একজন।”
গাবুরার মানুষের কাছে অসীম কুমারের এই সফর ছিল রাজনীতির নতুন রূপ। তিনি বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়াননি, পাশে বসেছেন পূণ্যার্থীদের সঙ্গে। ফুলের মালা বা করতালির ভিড়ে আটকে যাননি, মনোযোগ দিয়েছেন মানুষের মুখের কষ্টে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সফর শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা। বিশেষ করে যখন তিনি বলেন— “ধানের শীষ হলো কেবল প্রতীক নয়, এটা হচ্ছে পরিবর্তনের চাবি”, তখন অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন তার কথার ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে।







