শ্যামনগর

উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে অভিযোজন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

  শ্যমনগর প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৬ , ৩:৪৪:৫০ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী নারী উন্নয়ন সংগঠনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বেসরকারি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে “উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে করণীয়” শীর্ষক অভিযোজন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৈখালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোছা. খায়রুন্নেছা। সঞ্চালনা করেন বারসিকের ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অফিসার বর্ষা গাইন।

প্রশিক্ষণে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি, খাল দখল এবং কৃষি ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণমূলক অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধান, স্থানীয় উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশল নিয়ে দলীয় আলোচনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কর্মপন্থাও নির্ধারণ করা হয়।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা গ্রীন কোয়ালিশনের সদস্য ও কৃষক নেতা হাবিবুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুর ইসলাম, ৬০ নম্বর পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সিরাজ মল্লিক, জয়াখালী মহাজেরিন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো. আমিন আলী, পূর্ব কৈখালীর গোত্রপ্রধান প্রশান্ত কুমার মুন্ডা, পশ্চিম কৈখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের চর্চাকারী ফজিলা খাতুন, শতবাড়ীর সংগঠক জহুরা খাতুন, কৈখালী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রোজিনা পারভীন, বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার এবং ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স. ম. ওসমান গনী সোহাগসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে উপকূলীয় জনপদের দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও খবর