সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালু হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক রিপোর্ট

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলির ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এসব অনিয়ম বন্ধে বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন, ফ্রিডম অব স্পিচ, ফ্রিডম অব কনসায়েন্স বিবেকের স্বাধীনতা ও কথা বলার স্বাধীনতা চাই। একই সঙ্গে ইয়েলো জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মানুষের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়, সেটিও নিয়ন্ত্রণের দাবি বিভিন্ন দিক থেকে আসছে।’

সাইবার আইন-২০২৬ যথেষ্ট নয় এমন মতামতের পর আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। তবে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের কোনো পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করা হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোনো নেতা যদি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে না।’

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এতে বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও মেরামতের কাজে কিছুটা সময় লাগবে। এ কাজে সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় যোগ দেন।

জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, বিজিবি ও র‌্যাবের অধিনায়ক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিজ্ঞাপন