কালিগঞ্জ

জ্বালানি সংকটে বিপাকে সাংবাদিকরা, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

  কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ৩০ মার্চ ২০২৬ , ৩:১১:৪৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ যেখানে নিয়মিত যাতায়াত অপরিহার্য, সেখানে তেলের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংবাদকর্মীদের জন্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির জন্য চরম ভোগান্তি চলছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য কোনো ধরনের অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। এমনকি পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও কিছু ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর সংগ্রহ, জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা এবং জরুরি ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের সংকটের কারণে অনেক সাংবাদিককে বাধ্য হয়ে ভাড়া করা যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে চাপ সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সাংবাদিক ইশারাত আলী বলেন, সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। জরুরী কোনো সংবাদ সংগ্রহ করতে অগ্নিকাণ্ড, চুরি বা কোনো দুর্ঘটনার খবর পেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু পাম্পে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পেশাগত মর্যাদার জন্য অপমানজনক। আমরা সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোটা বা দ্রুত সেবার দাবি জানাই।

কালিগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমান শিমুল বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম মোটরসাইকেল। পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেছি।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মঈনুল ইসলাম খান বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় ও বৈশ্বিক সমস্যা। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা হওয়ায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে তাদের যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার ব্যাহত হতে পারে।

কালিগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে প্রতিটি পাম্পে সাংবাদিকদের জন্য সীমিত আকারে হলেও আলাদা বুথ বা দ্রুত সেবা চালু করা হোক। অন্যথায়, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও খবর