কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ৬ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:৩১:২৬ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সদ্য মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন এবং মনোনয়নবঞ্চিত ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকাল ৪টা থেকে পৃথক স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেলে ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকরা কালো পতাকা মিছিল নিয়ে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উত্তর কালিগঞ্জ বাস টার্মিনালে এসে শেষ হয়। এ সময় তারা “গরিবের ডাক্তারকে মনোনয়ন চাই” এ স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখর করে তোলেন।
অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের সমর্থকরা কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাদের পূর্বঘোষিত গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলেন, “দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে—আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ধানের শীষের বিজয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।”
সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকায় উভয় পক্ষ আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করে। ফলে কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকরা অভিযোগ করেন, জনবিচ্ছিন্ন আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ায় আসনটিতে ধানের শীষের পরাজয় অনিবার্য হতে পারে। তারা মনোনয়ন বাতিল করে “গরিবের ডাক্তার” হিসেবে পরিচিত ডা. শহিদুল আলমকে পুনরায় প্রার্থী ঘোষণা করার দাবি জানান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে, আলাউদ্দিন সমর্থকরা জানান, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বাদ দিয়ে সবাইকে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই কালিগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরপর থেকে ডা. শহিদুল আলমের অনুসারীরা অবরোধ, হরতাল, মানববন্ধন ও কালো পতাকা মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান না থাকলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

















