এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ৭ জুলাই ২০২৬ , ৩:৪০:৫৬ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নকে ঘিরে থাকা ১৫ নম্বর পোল্ডারের উপকূল রক্ষা বাঁধ থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি ‘নাইনটি’ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাঁদনীমুখা ও ৯ নম্বর সোরা এলাকার উপকূল রক্ষা বাঁধ থেকে এসব নাইনটি অপসারণ করা হয়।
জানা গেছে, চিংড়িঘেরে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সদ্য নির্মিত বাঁধের ওপরের কংক্রিট ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে এসব নাইনটি নির্মাণ করেছিলেন। এতে নবনির্মিত বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
অভিযানকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, গাবুরার চারপাশে টেকসই উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ এখনও চলমান। এর মধ্যেই কেউ কেউ নৌকা ভিড়ানোর জন্য খুঁটি স্থাপন এবং কয়েকজন নির্মাণাধীন বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নাইনটি তৈরি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় সেগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানেননি। ফলে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নাইনটিগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “গাবুরার চারপাশে প্রায় এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এত বড় উন্নয়নকাজের মধ্যে কিছু ব্যক্তি নতুন বাঁধের ক্ষতি করে অবৈধভাবে নাইনটি স্থাপন করেছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ১২টি নাইনটি অপসারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ বাঁধের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

















