সুন্দরবনে ৪ জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিনিধি

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনে সক্রিয় এসব বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৬ সদর দপ্তর, খুলনা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন। চার বাহিনীর মোট ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

র‌্যাব জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারীদের কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে সুন্দরবনে জেলে ও অন্যান্য বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও সামনে আসে। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে।

র‌্যাব-৬সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন