আশাশুনি

আশাশুনিতে ‘পানির রাজত্ব’, বিপর্যস্ত জনজীবন

  আবু হাসান চঞ্চল, আশাশুনি প্রতিনিধি ৯ জুলাই ২০২৫ , ৪:৫১:২১ অনলাইন সংস্করণ

শত শত মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে
নিচু বসতঘরে হাঁটু পানি
সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে
সুপেয় পানির তীব্র সংকট

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় টানা সাতদিনের বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় জনবসতি, মৎস্য ঘের ও সবজি ক্ষেত এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমরসমান। এ যেন এক ‘পানির রাজত্ব’ যেখানে মানুষ, গবাদিপশু, ফসল কেউই নিরাপদ নয়।
বৃষ্টির কারণে এলাকার অধিকাংশ নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর, গোয়ালঘর, এমনকি টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
বিশেষ করে বুধহাটা, কুল্যা, দরগাহপুর, কাদাকাটি, আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, খাজরা, আনুলিয়া, প্রতাপনগর, বড়দল ও শোভনালী ইউনিয়নের বহু বাড়ি এখন পানির নিচে। গ্রামীণ রাস্তাগুলো তলিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
মৎস্য ঘেরগুলোর অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। অধিকাংশ ঘেরের বাঁধ ভেঙে বা তলিয়ে মাছ ভেসে যাচ্ছে। কেউ কেউ শেষ রক্ষার চেষ্টা হিসেবে বাঁধের উপর দিয়ে নেটজাল টানিয়ে মাছ আটকে রাখার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার বলেন, “উপজেলার বেশিরভাগ মৎস্য ঘের এখন পানিতে হুমকির মুখে। অনেকে আংশিক বা পুরো ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘের রক্ষায় নেট টানানো ছাড়া আপাতত আর কিছুই করার নেই।”
বুধহাটা এলাকার বাসিন্দা এডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, “বেতনা নদী খননের কাজ অসমাপ্ত থাকায় এবং চাপড়ার কাছ বাঁধ দিয়ে নদী প্রবাহ বন্ধ রাখার ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না।” তিনি আরও বলেন, “মৎস্য ঘেরগুলো খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করায় জলাবদ্ধতা বেড়েই চলেছে।”
নৈকাটি গ্রামের মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি নিজে জলাবদ্ধ এলাকায় গিয়ে দেখেছি। বুধহাটা বিলের পানি সরাতে খালের মুখ খনন করতে হবে।”
নাগরিক নেতা প্রভাষক ইয়াহিয়া ইকবাল বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরনো ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খাল খনন, বিকল স্লুইস গেট মেরামত, দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘেরের পাশে থাকা নেটপাটা অপসারণ জরুরি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় বলেন, “আমি বিভিন্ন হুমকির মুখে থাকা নদী বাঁধ পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী এবং খাল খনন, কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে এই কাজের কারণে বর্তমানে কিছু এলাকায় পানি নিস্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে, তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

আরও খবর