সমাজ ও পরিবারের নানা বাধা জয় করে জীবনে সাফল্য অর্জনকারী তালা উপজেলার পাঁচ নারীকে অদম্য নারী পুরস্কার২০২৫ এর জন্য বাছাই করেছে উপজেলা প্রশাসন। পাঁচজনের জীবনে রয়েছে সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও নিজের অবস্থান তৈরি করার অসাধারণ গল্প।
অর্থনৈতিকভাবে সফল রাবিয়া বিবি:
দারিদ্রতাকে পেছনে ফেলে কঠোর পরিশ্রমে সন্তানদের মানুষ করেছেন রাবিয়া বিবি। অর্ধাহারে দিন কাটানোর সময় থেকেও দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় পৌঁছে দিয়েছেন। আজ তারা কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং রাবিয়া বিবি এখন সুখে-শান্তিতে জীবন যাপন করছেন।
শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সফল রুপা রানী পাল:
অভাবের মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের লড়াই চালিয়ে গেছেন রুপা রানী। বর্তমানে তিনি পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক। দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগও। শিক্ষকতাকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন।
সফল জননী সুচিত্রা দাশ:
অসচ্ছল পরিবারে জন্ম, অল্প বয়সে বিয়েসব প্রতিকূলতার মাঝেও সুচিত্রা দাশ সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তার ছেলে ৪৮তম বিসিএসে মেডিকেল অফিসার এবং মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। সংগ্রামী এই মা আজ সাফল্যের প্রতীক।
নির্যাতিতা থেকে স্বাবলম্বী ফরিদা বেগম:
শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, স্বামীর কারাবন্দিত্ব ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে দর্জি কাজ শিখে স্বাবলম্বী হয়েছেন ফরিদা। মেয়েকেও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে নিজের উপার্জনে পরিবারের হাল ধরে সুখে-শান্তিতে আছেন।
সমাজ উন্নয়নে অগ্রগামী শিরিনা সুলতানা:
দারিদ্রতার মধ্যেই বড় হওয়া শিরিনা সুলতানা তিন বার নির্বাচিত ইউপি সদস্য। রাস্তা, স্যানিটেশন, নারীর অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাতা সহায়তাসব ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। সমাজসেবা ও মানবকল্যাণকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
তালার এই পাঁচ সংগ্রামী নারী প্রমাণ করেছেন ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সততা থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়। তারা প্রত্যেকেই অদম্য নারী পুরস্কারের যোগ্য প্রতীক।
তালায় অদম্য নারী পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত পাঁচ নারীর সংগ্রামী আত্মকথা
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫২ অপরাহ্ণ
HridoyBarta








