রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির একক সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালজয়ী ও জনপ্রিয় বাংলা গানের পরিবেশনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মুখর ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ।
‘আলোর ইশকুল চৈতন্যের আলোকযাত্রা’র বিশেষ আয়োজন হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যদের উদ্যোগে এ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠান।
তিন ঘণ্টার পরিবেশনায় চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে একে একে পরিবেশিত হয় বাংলা গানের বহু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। এর মধ্যে ছিল ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’, ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘এ লগন গান শোনাবার’, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’, ‘মরমী গো, আজি মনের কথাটি বলোনা’, ‘আর দেখো না সেই মধু নামে’, ‘এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে’ এবং ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’।
এ ছাড়া ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘তারা ঝিলমিল স্বপ্ন মিছিল’, ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘যদি কাগজে লেখ নাম মুছে যাবে’, ‘নদীর যেমন ঝরনা আছে, আমার আছে তুমি’ ও ‘আমার সন্ধ্যায় প্রান্ত পাখিরা’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন তিনি।
চৈতালীর পরিবেশনায় কখনো প্রেম, কখনো বিরহ এবং কখনো স্মৃতিমেদুরতার আবহ তৈরি হয়। জ্যোৎস্নামাখা রাতের পরিবেশের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের সুর মিলেমিশে অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও আবেগঘন। উপস্থিত শ্রোতারা গভীর মনোযোগে গান উপভোগ করেন এবং প্রতিটি পরিবেশনা শেষে করতালির মাধ্যমে শিল্পীকে অভিবাদন জানান।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চৈতালী মুখার্জির সংগীত পরিবেশনে মুগ্ধ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব, লেখক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী খান শিল্পীর হাতে তাঁর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি ও Song Offerings’ এবং তাঁর নিজের লেখা ‘৫০১ টাকা ও অন্যান্য গল্প’ বই দুটি উপহার দেন।
অনুষ্ঠান শেষে অনুভূতি প্রকাশ করে চৈতালী মুখার্জি বলেন, “এটি আমার সংগীত জীবনের একটি বড় অর্জন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি জায়গায় একক সংগীত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এমন একটি আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ দর্শনকে ধারণ করা প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে এমন সংগীত সন্ধ্যা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীতের মধ্যে তৈরি করেছে এক অনন্য সংযোগ।
তিন ঘণ্টার পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠান শেষ হলেও শ্রোতাদের মনে থেকে যায় চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে পরিবেশিত কালজয়ী গানগুলোর রেশ।
চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ডেস্ক রিপোর্ট







