জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টেকসই করার লক্ষ্যে যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন জীবিকা উপকরণ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার টেকারঘাট ভিলেজ মার্কেটে এ উপলক্ষে সম্পদ হস্তান্তর সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের ‘সাসটেইনেবল রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (এসআরবিএম): অ্যাডাপ্টিং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্য সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এবং অভয়নগর উপজেলা পানি কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পায়রা ইউনিয়নের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের বিকল্প জীবিকা ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, ছাগল পালন, হস্তশিল্প ও মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভয়নগরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকাকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নদী-খাল ও পানি প্রবাহের পথ সচল রাখা, পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বাড়বে। জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু পানি নিষ্কাশনের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে নদী-খালের নাব্যতা, পানি প্রবাহ, স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের টেকসই জীবিকার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মতিয়ার রহমান ফারাজী। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার।
এ সময় পানি কমিটির সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান সরদার, হাবিবুর রহমান, মো. ফিরোজ আলম মহালদার, রজব আলী ফারাজী, কামাল হোসেন খান ও আব্দুল মজিদ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরণের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সানা, তানিয়া সুলতানা, মাসুম শেখ, রিজিয়া খাতুন, গোলাম হোসেন ও কামরান খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. ইমাদউদ্দীন গাজী।
উত্তরণের এসআরবিএম প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।







