ডেস্ক রিপোর্ট ১৩ জুন ২০২৬ , ৪:০০:২৮ অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা পশ্চিম মাঝের পাড়ার বাসিন্দাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি চলাচল উপযোগী রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কোমরসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার। এ অবস্থায় দ্রুত একটি রাস্তা নির্মাণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছখোলা এলাকার লতিফ হাজীর মিলের অপর পাশে অবস্থিত এই জনপদটি বছরের পর বছর অবহেলার শিকার। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দিলেও ভোট শেষ হওয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
বর্তমানে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে অত্যন্ত কঠিন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি চলাচলযোগ্য রাস্তার অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে রাস্তা নির্মাণের জন্য এলাকার প্রায় সব পরিবারই স্বেচ্ছায় নিজেদের জমির অংশ ছেড়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান এবং স্থানীয় প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান নিজ উদ্যোগে রাস্তাটিতে মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় কিছু জটিলতা ও অনাকাক্সিক্ষত বাধার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “রাস্তার জন্য আমরা সবাই জমি দিয়েছি। তারপরও কেন অর্ধশতাধিক পরিবারের যাতায়াতের অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে? আমরা বছরের পর বছর কষ্ট সহ্য করছি। এখন একটি স্থায়ী সমাধান চাই।”
তারা আরও বলেন, একটি পরিকল্পিত ও টেকসই রাস্তা নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নেও নতুন গতি আসবে।
এ পরিস্থিতিতে মাছখোলা পশ্চিম মাঝের পাড়ার বাসিন্দারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

















