দেবহাটা

হাসপাতাল আছে, চিকিৎসা নেই! বিপাকে দেবহাটার সাধারণ মানুষ

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৫ , ১:১৬:০২ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতি অচলাবস্থা ও অপ্রতুল জনবল—সব মিলিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে এই সরকারি হাসপাতালটি। প্রতিদিন বিপাকে পড়ছেন উপজেলার সাধারণ রোগীরা।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, যেখানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে থাকার কথা অন্তত ১৫ জন চিকিৎসক, সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার। অধিকাংশ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় চিকিৎসাসেবা কার্যত এককভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা জানাচ্ছেন, ডাক্তারের অভাবে সেবা পাচ্ছেন না তারা। জরুরি বিভাগেও রোগী এলে নাম-ঠিকানা লিখে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অথবা সাতক্ষীরা মেডিকেল। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। নেই আল্ট্রাসনোগ্রামের সুযোগও। প্যাথলজি বিভাগ চলছে দায়সারা ভাবে।

এছাড়া হাসপাতালের খাবারেও রয়েছে অভিযোগের অন্ত নেই। রোগীদের দেওয়া খাবারের মান নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। টয়লেট অপরিষ্কার, সুইপার থাকলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি প্রকট।

চিকিৎসা নিতে আসা দেবহাটার আনারুল ইসলাম বলেন, “এই পথ শরীর খারাপ নিয়ে এসে দেখি ডাক্তার নাই। কিছু না করেই ফিরে যেতে হচ্ছে।”

একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, চিকিৎসক নেই, যন্ত্রপাতি কাজ করে না—এমন অবস্থায় সরকারি হাসপাতালটি যেন শুধুই বিল্ডিংয়ে সীমাবদ্ধ।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করছি যেন রোগীরা ন্যূনতম সেবা পায়।”

জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারগুলোও বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যবহারের অভাবে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানো হোক, যন্ত্রপাতি সচল করা হোক এবং সেবার মান উন্নত করা হোক। তা না হলে একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

আরও খবর