সাতক্ষীরা

৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি

  ডেস্ক রিপোর্ট ২৮ জুন ২০২৬ , ৩:২৩:১৫ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি।

বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক করা হয়। এ সময় মোট ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি-সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা। এছাড়া উচ্চমূল্যের মাদকের মধ্যে ছিল ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল কেমিক্যাল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি।

প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

তিনি বিজিবির সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও খবর