ডেস্ক রিপোর্ট ১৫ জুলাই ২০২৬ , ৩:৩৭:৪৬ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ার আগেই রেলিং (হাতল) ভেঙে পড়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ তদারকির অভাব এবং নির্মাণে অনিয়মের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতন থেকে কল্যাণপুর অভিমুখী সড়কের ওপর ব্রিজটির নির্মাণকাজ গত ১৯ মার্চ শুরু হয়। এখনও মূল ঢালাইয়ের সেন্টারিং খোলা হয়নি। এরই মধ্যে চারটি রেলিংয়ে ফাটল দেখা দেয় এবং দক্ষিণ পাশের একটি রেলিং ভেঙে নিচের পানিতে পড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ব্রিজ নির্মাণে নিম্নমানের বালু, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি লবণাক্ত পানি দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে ব্রিজটির মূল ঠিকাদার কালীগঞ্জ উপজেলার মো. হাকিম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার হাকিম হোসেন নিজে নির্মাণস্থলে উপস্থিত না থেকে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করিয়ে থাকেন। পাশাপাশি প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে বিল উত্তোলনে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলায় তার কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে সাব-ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, “ব্রিজটির ঢালাইয়ের বয়স মাত্র ১৫ দিন। পাশের বিকল্প চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দুই পাশে মাটি দেওয়া হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত চাপেই রেলিংয়ে ফাটল ধরে এবং একটি অংশ ভেঙে পড়ে।”
কিউরিং সম্পন্ন হওয়ার আগেই কেন ব্রিজে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে নিয়মিত কিউরিং করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ব্রিজটি কমপক্ষে দুই মাস পর জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ব্রিজ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু নির্মাণকাজের মান নিয়েই প্রশ্ন ওঠে না, জননিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্রিজটি পুনরায় মানসম্মতভাবে নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিজের দুই পাশে অতিরিক্ত মাটি দেওয়ায় সেই চাপ রেলিংয়ের ওপর পড়ে ভেঙে গেছে। তারপরও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

















