সাতক্ষীরা

হাসপাতালসহ যেকোনো স্থানে আগুন লাগলে কী করবেন? জানুন তাৎক্ষণিক করণীয়

  নিজস্ব প্রতিনিধি ৪ আগস্ট ২০২৬ , ১:৩৪:৪০ অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, শিল্পকারখানা কিংবা আবাসিক ভবন যেকোনো স্থানে অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তবে আগুন লাগার পর তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই আশপাশের সবাইকে সতর্ক করতে হবে। ভবনে অগ্নি সতর্কীকরণ (ফায়ার অ্যালার্ম) ব্যবস্থা থাকলে তা অবিলম্বে চালু করতে হবে, যাতে ভবনের সবাই দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পান।

একই সঙ্গে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া জরুরি। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা ফায়ার সার্ভিসের নম্বরে ফোন করে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট স্থান, ভবনের নাম এবং আগুনের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

আগুন লাগার পর ভবন থেকে বের হওয়ার সময় কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফট আটকে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিরাপদ সিঁড়ি ব্যবহার করে দ্রুত ভবন ত্যাগ করতে হবে।

আগুনের পাশাপাশি ধোঁয়াও প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে নিচু হয়ে বা হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতে হবে। নাক ও মুখ ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।

কোনো কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে দরজা হাত দিয়ে স্পর্শ করে গরম কিনা পরীক্ষা করা উচিত। দরজা অতিরিক্ত গরম থাকলে ধরে নিতে হবে অপর পাশে আগুন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দরজা না খুলে বিকল্প নিরাপদ পথ খুঁজতে হবে।

আগুন ছোট পরিসরে থাকলে এবং পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে উপযুক্ত ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে আগুন বড় আকার ধারণ করলে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।

এ সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার, গ্যাস লাইন, দাহ্য রাসায়নিক বা অন্যান্য দাহ্য পদার্থের কাছ থেকে দ্রুত সরে যেতে হবে। কারণ এসব স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বিস্ফোরণসহ আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বেশি সংবেদনশীল। কারণ সেখানে আইসিইউ, নবজাতক ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার এবং লাইফ সাপোর্ট বা অক্সিজেন-নির্ভর রোগী থাকেন। তাই এসব রোগীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। রোগী স্থানান্তরের সময় চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা বিদ্যুৎ ও মেডিকেল গ্যাস লাইনের জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করবেন।

নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ ভবনের ভেতরে আটকে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হবে। তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে উদ্ধার করতে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ধাক্কাধাক্কি, আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি কিংবা লিফট ব্যবহার করা উচিত নয়। ধোঁয়ায় ভরা কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কারণ আগুনের চেয়ে ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় অনেক সময় বেশি প্রাণহানি ঘটে।

তাদের মতে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পূর্বপ্রস্তুতি। এজন্য হাসপাতাল, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন, জরুরি বহির্গমন পথ সম্পর্কে সবার ধারণা নিশ্চিত করা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এসব প্রস্তুতি থাকলে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যাবে।

আরও খবর