শ্যামনগর

প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

  এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ৩ মার্চ ২০২৬ , ৯:৫১:৫৫ অনলাইন সংস্করণ

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনিরের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ও শ্যামনগর সাংবাদিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আবু কওছার, সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আব্দুল কাদের, সাবেক উপদেষ্টা শেখ আফজালুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য রনজিৎ বর্মন, আবু সাঈদ, আনিসুর রহমান, হুসাইন বিন আফতাব, এস এম মিজানুর রহমান, মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম ইমন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ রুবেল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পেশাজীবী সংগঠন উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে সভাপতির ওপর হামলার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তাদের ধারণা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে পুলিশকে অবহিত করা হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলাকারীরা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শ্যামনগর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, পূর্বে অবহিত করা সত্ত্বেও পুলিশ যথাসময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধন করে। একপর্যায়ে যুবদল সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করে সভাপতি মনিরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও খবর