কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৮ মে ২০২৫ , ৪:৫৭:৩৭ অনলাইন সংস্করণ
বৃষ্টি হলেই প্লাবিত হয় জনবহুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার আজও পর্যন্ত কেউ সমাধান করতে পারেনি। ঘটনাটি কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি ডাঃ মুজিব-রুবি মাদ্রাসা সংলগ্ন ত্রিমোহনার মেইন রাস্তায়।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গণপতি গ্রামের প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি-সমাধান কোথায়? উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গনপতি ত্রিমোহনায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার উভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত মহসীন আলী (৬৫) উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গণপতি গ্রামে মৃত মোহর আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি কালিন্দী নদীর সাথে সংযুক্ত একটি পুরানো খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি একটি প্রতিবন্ধি পরিবারের ৩৫ বছরের পুরানো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার পায়তারা করছেন। বিপাকে পড়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি সমাধান কল্পে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজহার আলী এবং বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস জায়গাটি পরিদর্শন করেন। অভিযুক্ত মহসীন আলীকে নির্দেশ দেন পানি চলাচলের নালাটি উন্মুক্ত করতে। কিন্তু তিনি তা করেননি। ছাত্রজনতা মিলে গত ৫ মাস আগে নালাটি উন্মুক্ত করলেও পুনরায় তিনি মাটি দিয়ে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন।
রবিবার ( ১৮ মে) সকালে সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন গনপতি গ্রামের জনবহুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়টি বৃষ্টি হলে তলিয়ে যায়। পাশে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় একহাজার ছাত্রছাত্রী চলাচলের এই পথটি দিয়ে তখন তারা চলতে পারেনা। তিনি আরও বলেন বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হলে এই এলাকার গণপতি, ছনকা, মকুন্দপুর ও শীতলপুর, হাড়তদ্দহ, বসন্তপুর বাগ বসন্তপুর,ছনকা গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য খামার নষ্ট হবে। গত শনিবার (১৭ মে) রাতে ভারী বর্ষণে নতুন ওই স্থানে করে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ডাঃ মজিব রুবি স্কুলের কর্মরত ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হতেই হবে। উক্ত স্থানের এই রাস্তা দিয়ে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। একা মহসীন আলীর পক্ষে পানি চলাচলের একমাত্র নালা বন্ধ করা সম্ভব নয়। পিছন থেকে কলকাটি নাড়া বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় মাফিজুর রহমান, মোকোর্রম হোসেন বলেনে এটা হতে পারেনা। ব্যক্তি বিশেষের কারনে এলাকাবাসি পানিতে ডুবে মরবে তা হবেনা। পানি চলাচলের পথ খুলে দিতেই হবে।মাসুদুর রহমান, শাহজাহান আলী ও শাহেদা খাতুন বলেন শেখ হাফিজুর রহমান ছোট্টু ৩৫ বছর ধরে এখানে দোকানদারী করছে। পানি চলাচলের দোহায় দিয়ে তাকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। মহসীন আলী বলছে জায়গা ছাড়ো তবে পানি ছাড়বো এমন শর্ত মানা অন্যায়। গায়ের জোরে তিনি আমাদের জিম্মি করে ফেলেছেন।বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় মাতব্বর সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা আজ ১৮ মে সন্ধায় এলাকার স্থানীয়দের নিয়ে বসবো। আশাকরি সমাধান হবে। এ সময় অভিযুক্ত মহসীন আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমার জমির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। আমার জমির সামনে থেকে তার উঠে গেলে আমি পানি ছেড়ে দেব। আমার জমির সামনে থেকে না উঠলে আমি পানি ছাড়বোনা।
স্থানীয় মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম বলেন আমি বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বসেছি। সমাধান করতে পারিনি। তারপরেও বিষয়টি নিয়ে আবারও সমাধান করার চেষ্টা করবো। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নিস্পত্তি করবো

















