সাতক্ষীরা

বৃষ্টি থেমে যায়, দুর্ভোগ থামে না!

  মো. রাজু সিদ্দিকী ১৭ জুলাই ২০২৫ , ১১:১৩:৪৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের পাশে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে সিদ্দিক সুপার মার্কেটের সামনের অংশ যেন রীতিমতো একটি ‘মিনি খাল’। চারদিকে জমে থাকা ময়লা পানি, ভেসে থাকা প্লাস্টিক আর ময়লার স্তূপ — সব মিলিয়ে পথচারীদের জন্য এটি এখন দুর্ভোগের নতুন নাম।
বৃষ্টি হলেই থমকে যায় শহরের গতি। দোকানপাটের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই—দোকানের খরচ চালানোই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“ব্যবসা করবো, না পানি তুলবো—এই ভাবনায় প্রতিদিন শুরু হয় আমাদের সকাল।”—ক্ষোভের সঙ্গে বললেন পাবনা ইলেকট্রিকের মালিক খোকন।

তার পাশের দোকান মাহমুদ ইলেকট্রিকের মালিক মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই শহরের মূল সড়কে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে
আশপাশে কী হয় ভাবুন। অভিযোগের পর অভিযোগ দিয়েছি, কেউ দেখে না। পৌরসভা যেন বৃষ্টি থামলেই সব ভুলে যায়।”

পোশক বিক্রেতা খাইরে উম্মা’র ম্যানেজার রাকিব। তিনি বলেন, “পানি ডিঙিয়ে কেউ আসতে চাই না। ব্যবসার পরিস্থিতি খুব খারাপ”

তার সহকর্মী মুসা যোগ করলেন, “পানি জমলে দোকানে বসাও যায় না। এমনও দিন গেছে, যেখানে সারা দিন শুধু পানি তোলার কাজ করেছি।”

পোশাকের দোকান লোটো নিকুপার ম্যানেজার সুজন বললেন, “শুধু যে ব্যবসা মার খাচ্ছে তা না, গ্রাহকরা বলছেন এই পানির মধ্যে দোকানে আসতেও ভয় পান। নতুন সাজানো দোকানে এখন কাদা পানি ঢুকে যায়—চোখের সামনে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কমিশনার শফিকুল আলম বাবু জানান, “আসলে প্রতিবছর তো বৃষ্টি হয়। কিন্তু এবছর শুরুতে থেকে এত বেশি বৃষ্টি যে আমাদের এলাকার ম্যাক্সিমাম জায়গা প্লাবিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, এই জলাবদ্ধতা শুধু ব্যবসায় নয়, তাদের দৈনন্দিন জীবনেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। পায়ে হেঁটে চলা দায়, রিকশা চালকরা এই রাস্তায় আসতেই চান না। পানি এতটাই গভীর হয় যে, রাস্তা আর ড্রেনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না—যা একাধিক দুর্ঘটনার কারণও হয়েছে বলে অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনর্গঠন ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হয় না। পৌরসভা বর্ষার আগে কাজ না করলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আরও খবর