শ্যামনগর

উপকূলবাসীর বাঁচার স্বপ্নে স্বস্তির পরশ ছড়াচ্ছে ‘BID4CJ’ প্রকল্প

  এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:১৭:৫৬ অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রতিদিনের জীবন যেখানে শুরু হয় আতঙ্ক আর সংকট নিয়ে—সেখানে এখন ধীরে ধীরে ফিরছে স্বস্তি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা আর সুপেয় পানির সংকটে জর্জরিত এই জনপদে আশার আলো হয়ে এসেছে ‘ব্লু-ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (BID4CJ)’ প্রকল্প।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ-এর বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর, এবং খুলনার কয়রা উপজেলার জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই উন্নয়নের কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় খনন করা হয়েছে বহু মিষ্টি পানির পুকুর, পুকুরপাড় বাঁধাই ও সংস্কার, বড় আকারের রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ট্যাংক স্থাপন এবং আধুনিক ফিল্টার প্লান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারসহ রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে লবণসহিষ্ণু গাছ। মাদার নদীর চরে ৪৫ হাজার ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছে পরিবেশ রক্ষায়।

এই পরিবর্তন শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই থেমে নেই। নারীদের কষ্ট কমেছে, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে। গড়ে উঠেছে ‘উপকূল সুরক্ষা কমিটি’—যেখানে স্থানীয় নারী ও তরুণরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আটুলিয়ার দোলা, আরিফা মনিরা ও মঞ্জুয়ারা জানান, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স পুকুর খনন, ট্যাংক ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
কৈখালীর মুণ্ডা জনগোষ্ঠীর খুকুমণি ও সুমন বলেন, চলাচলের রাস্তা ও পানির ব্যবস্থা করে প্রকল্পটি তাদের জীবন অনেক সহজ করেছে।
রমজাননগরের হাফেজ আলতাফ জানান, এখন আর দূরের পানি কিনে খেতে হয় না—কম মূল্যে পানি পাচ্ছে সবাই।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, ১৬টি ইউনিয়নে জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতা, ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসা নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া সিসিকে প্রকল্পের মাধ্যমে মুন্ডা কমিউনিটিকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রকল্প প্রমাণ করেছে—সঠিক পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা থাকলে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকাতেও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। BID4CJ আজ শুধু উন্নয়নের নয়, এটি বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বিজয়ের গল্প।

আরও খবর