সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় কৃষির অপার সম্ভাবনা, পিছিয়ে গবেষণা-প্রশিক্ষণ ও সংরক্ষণ সুবিধায়

  রাহাত রাজা ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ২:২২:২২ অনলাইন সংস্করণ

ড্রাগন, মাল্টা, কুল, পেয়ারা, আমসহ উচ্চমূল্যের ফলের বাগান বাড়ছেতবে আধুনিক হিমাগার ও রপ্তানি প্রস্তুতি কেন্দ্র না থাকায় লাভ কম পাচ্ছেন কৃষক
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লীয় জেলা সাতক্ষীরা শুধু ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের জন্য নয়, কৃষির সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নদীঘেরা, উর্বর স্থলভাগ এবং নরম-লবণাক্ত মাটির প্রাকৃতিক গুণাগুণ এখানে নানা ধরনের ফসল চাষের পরিবেশ তৈরি করেছে। আগে যেখানে মৌসুমি ধান ছিল কৃষির প্রধান অবলম্বন, এখন সেখানে পরিবর্তিত হচ্ছে দৃশ্যপট। সাতক্ষীরায় এখন বাড়ছে ড্রাগন, মাল্টা, কুল, পেয়ারা ও আমের বাণিজ্যিক বাগান। একইসঙ্গে পটল, পেপে, লাউ, করলা, টমেটো ও বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদনও বাড়ছে।
ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের আগ্রহও বেড়েছে। অনেকেই নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যৎ খাদ্যবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দিতে পারে।
কিন্তু সম্ভাবনার মাঝেই প্রতিবন্ধকতা
সমস্যা হলোএই উৎপাদন ধরে রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জেলায় নেই : কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, আধুনিক হিমাগার বা ঠান্ডা সংরক্ষণ সুবিধা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা পরীক্ষার ল্যাব, রপ্তানি উপযোগী সোর্টিং, গ্রেডিং ও প্যাকেজিং কেন্দ্র।
ফলে মৌসুমে ফলন বেশি হলে বাজারে দাম পড়ে যায়, কৃষক বাধ্য হয় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে।
শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু সংরক্ষণ ও মূল্য সংযোজন ( (Value Addition)) না থাকায় কৃষক তার সঠিক মুনাফা পায় না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন “ড্রাগন আর মাল্টা চাষে নতুন দরজা খুলছে। কিন্তু ফল বেশি হলে বিক্রি করা যায় না। যদি হিমাগার বা কালেকশন সেন্টার থাকত, আমরা ন্যায্যমূল্য পেতাম।”
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেনজেলা পর্যায়ে চাষের বৈচিত্র্য বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু রপ্তানির মানে পৌঁছাতে হলে আরও কিছু ধাপ পূরণ করা প্রয়োজন। যেমন : রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ উৎপাদন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্টিফিকেশন, এগুলো নিশ্চিত করতে হলে গড়ে তুলতে হবে কাঠামো ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা। যে পদক্ষেপগুলো এখনই নেওয়া উচিত :
১. সাতক্ষীরায় একটি কৃষি গবেষণাগার স্থাপন
২. উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হিমাগার নির্মাণ
৩. রপ্তানি প্রস্তুতি কেন্দ্র (Sorting + Grading + Packing)

৪. কৃষকের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের টেকনিক্যাল সাপোর্ট
৫. বেসরকারি রপ্তানি বাজারের সঙ্গে কৃষকের সরাসরি সংযোগ স্থাপন সাতক্ষীরা আজ কৃষি থেকে সম্ভাবনার বিকাশমান ভূখন্ড। এখানে উৎপাদনের বৈচিত্র্য রয়েছে, বাজার রয়েছে, আগ্রহী কৃষক রয়েছেঅভাব শুধু পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের।
যদি গবেষণা, সংরক্ষণ ও রপ্তানি-মুখী কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে, তবে সাতক্ষীরা শুধু নিজ জেলার অর্থনীতিই নয় বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। লেখক : রাহাত রাজা, সাংবাদিক।

আরও খবর