ডেস্ক রিপোর্ট ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩৬:৪৫ অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাথন্ডা বাজারে বাঁশদহা, বৈকারী ও কুশখালী ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈকারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুস আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রউফ বলেন, “যেদিন খইতলার বাঁধ ভেঙেছিল, সেদিন কোনো তথাকথিত নেতা পাশে আসেনি। সেদিন আমি আলিপুর ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জনগণের দল। সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে উদগ্রীব। ধানের শীষের গণজোয়ারে ভোট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা-২ আসনে আমি এমপি নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসী উন্নয়ন ও শান্তির জন্য বিএনপিকেই নির্বাচিত করবে।”
এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা-২ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করবো। আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সাতক্ষীরাবাসীর জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সমালোচনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি দল ধর্মের দোহাই দিয়ে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ তারা শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তারা স্বাধীনতাবিরোধী ও ক্ষমতালোভী। তাদের কথা এক, কাজ আরেক। তারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়, যে পাকিস্তানের মূল পেশাই এখন ভিক্ষাবৃত্তি।”
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, রফিকুল আলম বাবু, ইউসুফ আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, জেলা কৃষকদলের সাবেক আহ্বায়ক আহছানুল কাদির স্বপন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের মাহমুদুল আলম শাহিন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু রায়হান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা সাইদুর রহমান শাহিন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পি, সাবেক ছাত্রদল নেতা রমিজ উদ্দিন রুমি, কুশখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার, ঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলাম, বাঁশদহা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
বৈকারী, কুশখালী ও বাঁশদহা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভা লোকে লোকারণ্য হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক এবং নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার।

















