আবু রায়হান ২৩ মে ২০২৬ , ৪:৪৮:৩১ অনলাইন সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়েই চলেছে লবণাক্ততা, ভাঙছে বেড়িবাঁধ, সংকুচিত হচ্ছে সুপেয় পানির উৎস। একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও “বিশেষ উপকূলীয় তহবিল” গঠনের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। “উপকূলের পরিবেশ সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’ সাতক্ষীরা জেলা শাখা। সংগঠনটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত। এসময় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, আমিনা বিলকিস ময়না, এসএম শহীদুল ইসলাম, শেখ তানজির আহমেদ, আকরামুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান সরদার, মো. হোসেন আলী, মিলন বিশ্বাস, শেখ সিদ্দিকুর রহমান ও ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণা ও সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত অস্তিত্ব সংকটে পড়ছেন।
বক্তারা জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং হারিয়ে যেতে পারে প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি। এছাড়া শতকের শেষে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে লাখ লাখ মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে গত দুই দশকে উপকূলে আঘাত হানা সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস, সিত্রাং, মিধিলি ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এসব দুর্যোগে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানুষ হারিয়েছে বসতভিটা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ।
তারা আরও বলেন, উপকূলবাসীর প্রধান সুরক্ষা হলো বেড়িবাঁধ। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সামান্য জোয়ারেই অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোনা পানি প্রবেশ করছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি ও সুপেয় পানির উৎস, বাড়ছে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, উপকূল রক্ষায় সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢালের মতো কাজ করছে। একই সঙ্গে এই বনকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন লাখো মানুষ।
পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় বাজেটে মোট বরাদ্দ বাড়লেও জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ক্রমেই কমছে, যা উপকূলীয় বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন জাতীয় বাজেটে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

















