প্রেস বিজ্ঞপ্তি ২৯ জুলাই ২০২৫ , ১:৩৬:০১ অনলাইন সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কিশোর-কিশোরী ও যুবদের সম্পৃক্ত করে জাতীয়ভাবে সচেতনতা ও কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় একটি পরামর্শমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই ২০২৫) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভার আয়োজন করে জেলা তথ্য অফিস ও ইউনিসেফ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিশু-কিশোর, যুব প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে এ আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ কঠিন হলেও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বন্ধে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসই হতে পারে বড় প্রতিরোধ।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু সংকট শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, এটি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অধিকার ও ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সুতরাং, এই সংকট মোকাবেলায় তাদের মতামত ও অংশগ্রহণ জরুরি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। ইউনিসেফের খুলনা বিভাগীয় প্রধান কাওসার হুসাইন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক শিশু ও যুবদের কণ্ঠ জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্যই এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে। আসন্ন এনডিসি ৩.০ শিশু ও যুব সংবেদনশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের ইউডিএ মোঃ মনিরুজ্জামান।
এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। ইউনিসেফের কর্মকর্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য শক্তি, টেকসই কৃষি, বন সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রভৃতি বিষয়ে কার্যকর সেশন পরিচালনা করেন।
সভায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কিশোর-কিশোরী ও যুব প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করেন।
এই পরামর্শ সভার মাধ্যমে একটি শিশু ও যুব-সংবেদনশীল জলবায়ু পরিকল্পনা (NDC 3.0) প্রণয়নে স্থানীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপনের পথ সুগম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

















