সাতক্ষীরা

গরুর হাটে ঈদের হাওয়া, দরকষাকষিতে মুখরিত বাজার

  আলী মুক্তাদা হৃদয় ২ জুন ২০২৫ , ৫:৩৯:১৪ অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র ঈদুল আজহার কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির গরুর বেচাকেনা জমে উঠেছে।
জেলার প্রধান হাটগুলোর মধ্যে আবাদেরহাট, পারুলিয়া গরুর হাট, কাথন্ডা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশি জাতের গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষে ভরে উঠেছে এসব হাট, তবে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা এবার তুলনামূলক বেশি।
হাটের পরিবেশ ও বেচাকেনা জেলার বৃহত্তম পশুর হাট পারুলিয়ায় ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। সপ্তাহে একদিন এই হাট বসলেও কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া আবাদেরহাটে সপ্তাহে ধুলিহর ডিবি স্কুল মাঠে অস্থায়ী হাট ও কাথন্ডা হাটে নিয়মিত বেচাকেনা চলছে।
পারুলিয়া হাটের এক ক্রেতা জানান, “এবার হাটে গরুর সরবরাহ পর্যাপ্ত। ক্রেতারাও আসছেন, তবে বেচাকেনা আরো জমে উঠবে ঈদের আগের দুই দিন। দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দরকষাকষি চলছে, তবে সবাই সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারছেন।”
কাথন্ডা হাটে গরু কিনতে আসা তুষার হোসেন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি, তবে মাঝারি আকারের গরু ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আমার বাজেটের মধ্যে একটি গরু পছন্দ হয়েছে, আশা করি দরদাম করে কিনে নিতে পারব।”
অন্যদিকে, আবাদেরহাটের খামারি মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। আমরা আশানুরূপ দাম পাচ্ছি না। তবে ঈদের আগে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”
তিনি জানান, ১০০ কেজি ওজনের একটি গরুর দাম ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাঁকা হচ্ছে, তবে ক্রেতারা ১০-১৫ হাজার টাকা কম দিতে চাইছেন।
ধুলিহর ডিবি স্কুল মাঠের হাটে গরু বিক্রি করতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এবার ভারত থেকে গরু না আসায় আমরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারণে হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম, যা বিক্রিতে প্রভাব ফেলছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া ভালো হলে ক্রেতার সমাগম বাড়বে।
হাটগুলোতে ছোট আকারের গরুর দাম ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার, মাঝারি আকারের গরু ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং বড় আকারের গরুর দাম ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও আর্থিক সংকটের কারণে ক্রেতারা মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর প্রতি বেশি ঝুঁকছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানাযায়, “সাতক্ষীরার খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করছেন, যা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। চাহিদার তুলনায় পশুর যোগান বেশি থাকায় কোনো সংকট হবে না।”
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে হাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “আসন্ন ঈদ ও পশুর হাটের জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ হতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদ ও পশুর হাটকে সামনে রেখে জাল টাকার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায় এব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ব্যাংকসমূহকে জাল টাকা প্রতিরোধে পশু হাটগুলোতে জাল টাকা সনাক্তকরণে মেশিন এর ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ করেন। পশু হাটগুলোতে কোন ধরণের চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর সাথে কেউ জড়িত থাকলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি”।
খামারিরা জানান, গো-খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং পালন খরচ বৃদ্ধির কারণে তারা লাভের আশায় বেশি দাম চাইছেন। তবে ক্রেতাদের কাছে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। পারুলিয়ার খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেড় বছর ধরে গরু লালন-পালন করি। খরচ অনেক, তাই দাম একটু বেশি হলেও এটা আমাদের জন্য ন্যায্য। ঈদের আগে দাম আরেকটু বাড়লে আমরা লাভবান হব।”
সাতক্ষীরার কোরবানির হাটগুলো এখন ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া সত্তে¡ও হাটে পশুর সরবরাহ ও ক্রেতার উপস্থিতি ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও জমজমাট করছে। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তৎপরতায় নিরাপদ ও সুষ্ঠু বেচাকেনার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আরও কাছে এলে এই হাটগুলো আরও বেশি জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা সবার।

আরও খবর