মো. রাজু সিদ্দিকী ৩ জুন ২০২৫ , ২:৫০:০১ অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সাতক্ষীরার পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। এ বছর সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর বাজারে গরুর যোগান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি, যা ক্রেতাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার ৩১৮টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৬০৬টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯ হাজার ১৯৯টি গরু, ১ হাজার ১৮২টি মহিষ, ৪৪ হাজার ৫৪টি ছাগল, ৬ হাজার ১৫৬টি ভেড়া এবং অন্যান্য ১০টি পশু।
এতে করে গরুর দাম গত বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। স্থানীয় হাটগুলোতে দেশি গরু ৭০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৮৫,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা। বড় আকারের গরুগুলোর দামও আগের বছরের তুলনায় ১০-১৫% কম।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ব্যাপারী মো. আব্দুল হক জানান, “এ বছর গরুর সংখ্যা বেশি, তাই ক্রেতারা তাদের বাজেটের মধ্যে ভালো গরু পাচ্ছেন। আমরা বিক্রেতারাও কম লাভে বিক্রি করছি, তবে বাজারে চাহিদা ভালো আছে।”
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত বছর আমি ৮০,০০০ টাকায় একটি গরু কিনেছিলাম, এ বছর একই মানের গরু ৬৫,০০০ টাকায় পেয়েছি। এটা আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বড় স্বস্তি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাস বলেন, চাহিদার তুলনায় এবার প্রায় ১৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। ভারতীয় গরু যাতে না আসে, সেজন্য সরকার কড়া অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা বেড়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ। তার মতে, চোরাই পথে সীমিতসংখ্যক গরু এলেও তাতে প্রান্তিক খামারিদের তেমন প্রভাব পড়বে না।
তিনি আরও জানান, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখছে।
এদিকে, সাতক্ষীরার বিভিন্ন হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বেচাকেনা আরও জমে উঠবে। তবে, বর্তমানে কম দামে ভালো মানের গরু পাওয়ায় ক্রেতারা সন্তুষ্ট।
বাজারে বিভিন্ন জাতের গরুর চাহিদাও বাড়ছে, যা মাংসের গুণাগুণ ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সাতক্ষীরার এই বাজার পরিস্থিতি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই সুখবর বয়ে আনছে। যেকম দামে মানসম্পন্ন গরু কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি, আর খামারিরাও তাদের উৎপাদিত পশু বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। ঈদের আগে এমন সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা সাতক্ষীরাকে কোরবানির পশুর বাজারে অন্যতম গন্তব্য করে তুলেছে।

















