নিজস্ব প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০২৫ , ৪:২৫:৫৩ অনলাইন সংস্করণ
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখা।
রোববার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের খুলনারোড মোড়স্থ আসিফ চত্ত্বর এলাকা ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে শতশত নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসক জনাব মোস্তাক আহমেদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেনজামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহামুদুল হক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওমর ফারুক ও অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সুবহান মুকুল, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান, দেবহাটা সেক্রেটারি ইমদাদুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, “বিগত সরকার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর উপর জুলুম নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল এসব অবৈধ কর্মকান্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তাই জনগণ তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।”
জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ দফা :
১। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা।
২। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পি.আর.) পদ্ধতি চালু করা।
৩। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা।
৪। ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম–নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫। স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
জামায়াত নেতারা বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

















