সাতক্ষীরা

সড়কে সড়কে ময়লার স্তুপ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শহরবাসী!

  শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না ১৮ আগস্ট ২০২৫ , ৪:৪৪:১৬ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা শহরের অধিকাংশ সড়কের উপর ময়লা-আবর্জনার স্তুপ পড়ে আছে। এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শহরবাসী।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেনএভাবে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে থাকলে শহরের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠবে এবং নগরবাসী বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হবে।
পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নাগরিক সচেতনতার অভাবেই এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শহরে ডাস্টবিন থাকা সত্তে¡ও অনেকেই রাস্তায় ময়লা ফেলছেন।
সরে জমিনে দেখা গেছেকলেজ রোডের মাঝখানে, ইটাগাছা হাটরমোড় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের উপর, সুলতানপুর বড়বাজারের প্রবেশদ্বার, প্রেসক্লাব সড়ক, নারকেলতলা ব্রিজ রোড ও সার্কিট হাউস সড়কে ময়লার স্তুপ জমে আছে।
বাসিন্দা রবিউল জানান, “লোকজন বাড়ির ময়লা পলিথিনে করে মোটরসাইকেলে এনে এসব সড়কের উপর ফেলে রেখে যাচ্ছে।”
ইটাগাছার বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, “আমাদের মহল্লায় ডাস্টবিন নেই। পৌরসভাকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে রাস্তায় ময়লা ফেলতে হচ্ছে।”
সুলতানপুর বড়বাজার সংলগ্ন দিবানৈশ্য কলেজের শিক্ষার্থী ফাইয়াদ, শহিদুল ও ফয়সাল জানান, “কলেজে প্রবেশমুখেই ময়লার বিশাল স্তুপ। প্রতিদিন দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল বলেন, “যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। শহরবাসী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সদস্য স্বপন শীল জানান, “কাগজে-কলমে সাতক্ষীরা এক নম্বর পৌরসভা। কিন্তু বাস্তবে নাগরিকরা ন্যূনতম সেবা পাচ্ছে না। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে যায়। আর এখন রাস্তায় রাস্তায় ময়লার স্তুপ পড়ে আছে, শহরের পরিবেশ হুমকির মুখে।”
অপ্রতুল ডাস্টবিনের কথা স্বীকার করে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী জানান, “৯টি ওয়ার্ডের জন্য কমপক্ষে ১৫০টি ডাস্টবিন দরকার, অথচ রয়েছে মাত্র ৫০টি। এছাড়া ময়লা পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬টি গাড়ির জায়গায় আছে মাত্র দুটি। তাও মাঝে মাঝে বিকল হয়ে পড়ে।
শহর পরিষ্কার রাখতে নাগরিকদের আগে সচেতন হতে হবে। ডাস্টবিনে না ফেলে কেন রাস্তায় ফেলবেন?”
তিনি জানান, ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে সুন্দরবন ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মাস শেষে সামান্য টাকা নিলেও অনেকেই তা পরিশোধ করেন না। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে টাকা নিলেও পরিছন্নকর্মীদের দেন না।
ইদ্রিস আলী আরও জানান, “সম্প্রতি পৌরসভার মধ্যে নতুন ডাস্টবিন স্থাপনে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আপত্তি তুলেছে। এতে দ্বন্দের মধ্যে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।”
নাগরিক সচেতনতা, ডাস্টবিন ও যানবাহনের ঘাটতি, আর পৌর কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কারণে সাতক্ষীরা শহর এখন ময়লার স্তুপে ভরপুর। শহরবাসীর দাবিদ্রুত সমাধান না হলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুই-ই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

আরও খবর