ডেস্ক রিপোর্ট ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:২৯:০৫ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে সড়ক-ঘাট, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হিমেল বাতাসে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ছে, নিত্যদিনের কর্মক্ষেত্র ও বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা। শীতের তীব্রতায় অনেকেই কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না, ফলে আয় কমে পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় এলাকায় ফল বিক্রেতা হাসান আলী জানান, আগে প্রতিদিন ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকার ফল বিক্রি হতো, কিন্তু শীতের প্রকোপ বাড়ার পর কোনো কোনো দিনে ৪০০ টাকার বেচাকেনাও হয় না।
তার ভাষায়, “মানুষ বের হচ্ছে না। শীতে বাজারে লোক না থাকলে আমরা কীভাবে পরিবার চালাবো? তিন দিন ধরে দোকান ভাড়া আর ঘরের খরচ জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছি।”
রাজ্জাক পার্ক এলাকার মোড়ে চায়ের দোকানি আব্দুল হামিদ বলেন, “গরম চা বিক্রি হবে ভেবে দোকান খুলেছি, বেচাকেনা কমে গেছে, আবার আগের মতো দোকান চালানোর পরিস্থিতিও নেই।” শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই একই অভিযোগ। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই, অথচ খরচ বেড়েই চলেছে।
সাতক্ষীরা পাকাপোল দিনমজুর রফিকুল ইসলাম জানান, শীতে কাজের ডাক কমে গেছে। ভোরে কাজে যাওয়ার সাহস পান না তিনি। “প্রতিদিন কাজ না করলে সন্তানদের খাবার জোটে না। এই শীত আমাদের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ।”
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল রোডে দেখা মেলে পথচারী সাবিনা খাতুনের সঙ্গে, হাতে শিশুকে জড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, “বাইরে বের হলেই হাড়ে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগে। বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েই চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে নিউমোনিয়া পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডাক্তাররা ঘরে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে, বাইরে গেলে যথাসম্ভব শীতবস্ত্র ব্যবহার করতে এবং শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে নারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্যে যুব ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, “নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা কম্বল বিতরণ করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনো অপ্রতুল। শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। জেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান এবং দেশের যেকোনো জায়গায় থাকা সাতক্ষীরাবাসীর কাছে আহ্বানএই সময়ে সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন।”
সুন্দররবনের স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বাজারে লোক না আসায় বেচাকেনা কমে গেছে। পর্যটকও কম এসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে জেলার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

















