সাতক্ষীরা

দুই শত বছরের বিচ্ছিন্নতার অবসান: সোনাকুড়ির বিলে নির্মাণ হচ্ছে নতুন সড়ক

  ডেস্ক রিপোর্ট ১০ জুন ২০২৬ , ৩:৫৪:০৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চৌধুরীআটি গ্রামের সোনাকুড়ির বিলপাড়ের প্রায় ৫০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। গ্রামবাসীর উদ্যোগ এবং পাঁচটি পরিবারের স্বেচ্ছায় জমি দানের মাধ্যমে বিলের মাঝ দিয়ে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাকুড়ির বিলের পশ্চিম পাড়ে বসবাসকারী দুই শতাধিক মানুষ প্রায় দুই শত বছর ধরে মূল গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবনযাপন করে আসছিলেন। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমির আইল দিয়ে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে বিল পানিতে তলিয়ে গেলে কোমরসমান পানি পেরিয়ে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হতো এলাকাবাসীকে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নানা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সম্প্রতি গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। জনস্বার্থে পাঁচটি পরিবার স্বেচ্ছায় জমি দান করলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কালিগঞ্জ উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুকের উদ্যোগে এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসারের অর্থায়নে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “এই সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামের দুই অংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবধান ঘুচবে। শিক্ষার্থী, নারী, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষের চলাচল সহজ হবে। জনগণের ঐক্য এবং জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা থাকলে অসম্ভব মনে হওয়া কাজও বাস্তবে রূপ নেয়।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার ইব্রাহীম বাহারী, সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক জামাল ফারুক, ওলামা বিভাগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার আজাদী, সমাজসেবক রওশান কাগুজী, মানবসম্পদ বিভাগের সভাপতি অহিদুর রহমান, যুব বিভাগের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে বর্ষাকালের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে এবং এলাকার শিক্ষার্থী, নারী, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে। তাদের মতে, এই সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুর্ভোগ ও বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক।

আরও খবর