ডেস্ক রিপোর্ট ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:২৩:৩৫ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে গ্রামের মানুষ এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশবাগানে দেখা যায়—শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষজন পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তপ্ত রোদে ফ্যান ও বিদ্যুৎহীন ঘরের ভ্যাপসা গরম সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠেছে তাদের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর লস্কর জানান, “দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। টিনের ঘর বা ইটের দালানে থাকা যায় না গরমে। তাই কারেন্ট চলে গেলে আমরা বাঁশবাগানে এসে বসি। এখানে বাতাস একটু হলেও স্বস্তি দেয়।”
আরেক বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর থাকা যায় না। লোডশেডিং তো আছেই। বিকেলের দিকে বাঁশবাগানে চলে আসি। এখানে অন্তত ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায়। কিন্তু ঘরের ভেতর মহিলাদের এই গরম সহ্য করতে হচ্ছে, যা খুব কষ্টের।”
পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ বা গাছপালা আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে। ফলে তাপদাহের সময় এমন প্রাকৃতিক ছায়া মানুষের জন্য বড় স্বস্তির উৎস হয়ে ওঠে।
এদিকে, চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনের তীব্র গরম ও রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাপন। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে গাছপালার ছায়াযুক্ত খোলা জায়গা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে পুনরায় সংবাদটি পাঠানো সম্ভব হয়। লোডশেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

















