নিজস্ব প্রতিনিধি ৮ জুন ২০২৬ , ৪:৪৭:৫২ অনলাইন সংস্করণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। মোবাইল ব্যাংকিং—বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করা না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহক সরাসরি কার্যালয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে রিচার্জ করছেন।
রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) সকালে শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকো গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর নিতে এসেছেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্কদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে রিচার্জে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। অনেকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন রিচার্জ হবে আর কখন কাজে যাব বুঝতে পারছি না। এই গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
হাফিজুর রহমান নামে আরেক গ্রাহক জানান, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। টোকেন নম্বর দিতে ভুল হলে আবার ঝামেলা হয়, এতে ভোগান্তি আরও বাড়ে।”
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়ানো আশিকুর রহমান বলেন, “পায়ে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখানে আসতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু উপায় নেই।”
কলেজ শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল থেকে এসে দেখি বিশাল সিরিয়াল। কাউন্টার বাড়ালে ভোগান্তি কিছুটা কমত।”
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই চরম কষ্টে সময় পার করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও রিচার্জ ব্যবস্থা ও কারিগরি সমস্যার কারণে এটি এখন নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার মিটার লক হওয়া ও মোবাইল ব্যাংকিং জটিলতায় সাধারণ গ্রাহকরা অতিষ্ঠ।
ওজোপাডিকো (WZPDCL) সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের আওতায় প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। বিপুল এই গ্রাহকের চাপ সামলাতে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “বর্তমানে দুটি কাউন্টার চালু রয়েছে। প্রয়োজনে আরও একটি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।”
তবে গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিং রিচার্জ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানো না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা সহজ, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

















