আশাশুনি

প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জেলার ৪টি আসনে : নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন ২০ প্রার্থী

  আলী মুক্তাদা হৃদয় ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৫১:৪৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বদিতাকারী ২০ জন প্রার্থীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
প্রতীক বরাদ্দের আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সভায় পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান, আনসার কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নির্বাচনকালীন সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।
সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপির চারজন প্রার্থী ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর চারজন প্রার্থী দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির চারজন প্রার্থী লাঙ্গল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চারজন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ডাব, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মটরগাড়ি, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী রকেট প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ, জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ দাড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল করিম হাতপাখা, জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান লাঙ্গল এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতীক পেয়েছেন। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির আব্দুর রউফ ধানের শীষ, জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান লাঙ্গল, বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী মটরগাড়ি ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ পান। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম ফুটবল, বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন ধানের শীষ, জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী হাতপাখা এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রুবেল হোসেন রকেট প্রতীক পেয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ধানের শীষ, জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম দাড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান হাতপাখা এবং জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ লাভ করেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২৯ জন মনোনয়ন দাখিল করলে যাচাই-বাছাই শেষে ১৯টি বৈধ ও ১০টি বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিলে চারজন প্রার্থী বৈধতা পান। মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে ২০ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্ব›িদ্বতায় থাকছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এক ভোটার আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই এবং উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি।” শ্যামনগরের এক ভোটার রাশিদা খাতুন বলেন, “উপকূলীয় এলাকা হিসেবে আমাদের প্রধান সমস্যা জলবায়ু ঝুঁকি, লবণাক্ততা ও নিরাপদ পানির সংকট। যে প্রার্থী এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তাকেই আমরা ভোট দেব।”
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় নির্বাচনী লড়াই এখন পুরোপুরি মাঠপর্যায়ে গড়াল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া প্রচারণাকে ঘিরে জেলাজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক সরবতা।

আরও খবর