কালিগঞ্জ

দেশ স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরের মধ্যে গত ১৫ বছর ছিল একটি অন্ধকার যুগ : মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল

  ডেস্ক রিপোর্ট ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:১১:১৩ অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেছেন, দেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে গত ১৫ বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়াবহ অন্ধকার যুগ। এই সময়ের সবচেয়ে বড় সাক্ষী সাতক্ষীরা ও কালিগঞ্জ। এখানে ৪৮ জন ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন। পরিবর্তনের জন্য সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, ১৪শ’র বেশি তরুণ ও যুবক শাহাদাত বরণ করেছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ।
শনিবার (৭ ফেব্রæয়ারি) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে একটি পরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং সেই প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই দেশ পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রে বহু সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে মানুষ বারবার বঞ্চিত হয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, ১৯৭১ সালের পর শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান সবুজ বিপ্লবের কথা বলেছেন, এরশাদ নতুন বাংলাদেশের কথা বলেছেন। কিন্তু সোনার বাংলায় সোনা ফলেনি, সবুজ বাংলাদেশ সবুজে ভরে ওঠেনি, নতুন বাংলাদেশেও মানুষ নতুন কিছু পায়নি। কারণ সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ দরকার, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে দরকার তরতাজা তরুণ সমাজ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন নতুন চিন্তা ও চেতনাÍ যা গত ৫৪ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদসহ বাংলাদেশের তরুণ সমাজ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। প্রায় ৩০ হাজার তরুণ ও যুবক আহত হয়ে আজও যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে। এত ত্যাগ, এত শাহাদাতের বিনিময়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আবার পুরনো বাংলাদেশ ফিরে আসে, তাহলে দেশের মানুষের দুঃখের অবসান হবে না।
আগামীর বাংলাদেশ যদি ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণের বাংলাদেশ হতে হয়, তাহলে মানবিক, সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষদের নেতৃত্ব প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দায়িত্বশীল সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই সংগঠনই সোনার মানুষ উপহার দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
এ জন্য তিনি আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত মনোনীত সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে আমাদের শহীদরা শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ আলী রায়হানসহ গত ১৬ বছরে কালিগঞ্জের যেসব ভাই-বোন জীবন দিয়েছেন। যাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের মা-বোনদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যারা খুন হয়েছেন ও চাকরি হারিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের নতুন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ ও মানবিক বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি জামায়াত বা পরিবারের বিজয় চান না, তিনি চান ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। তাই আগামী ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বাবু কৃষ্ণ লাল নন্দী, সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস. এম. সালাউদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা জায়েদ আব্দুল্লাহ, ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি জুবায়ের হোসেন, শহর শাখার সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, নায়েবে আমির নুরুল আবসার মোর্তজা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কালিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা এমদাদুল হক প্রমুখ।

আরও খবর