আশাশুনি

ভাঙা সড়কে ম্লান হতে বসেছে জেলার ৩ উপজেলার ঈদ আনন্দ

  মীর খায়রুল আলম ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৫:৫৩:২৬ অনলাইন সংস্করণ

ভাঙাচোরা সড়কে ম্লান হতে বসেছে ৩ উপজেলার আনন্দ। সাতক্ষীরা-শ্যামনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা কালগঞ্জ, শ্যামনগর উপজেলার একমাত্র সড়ক অতিমাত্রায় ভাঙাচোরা হওয়ায় দূর্ভোগ চরমে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য সড়কটি একমাত্র যোগাযোগ পথ। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই দূর্ভোগ লাঘবে সংড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও তা চলছে কচ্ছপ গতিতে। কোথাও ঘুড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও বালু ভরাট করে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার অনেক স্থানে কালভার্ট নির্মানের জন্য তৈরী করা হয়েছে বিকল্প রাস্তা।
তথ্য মতে সাম্প্রতি সময়ে সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর সড়কটি নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চলাচল করতে যেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ পথের যাত্রীদের। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য মতে, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের এই বৃহৎ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৬২.৩২৫ কিলোমিটারে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা। যার মধ্যে লাবনী মোড় থেকে বাঁকাল চেকপোস্ট, বাঁকাল চেকপোস্ট থেকে পারুলিয়া গরুরহাট, পারুলিয়া থেকে হাদীপুর, নলতা হাদীপুর থেকে কালিগঞ্জ ফুলতলা, কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে শ্যামনগর মহসিন কলেজ, শ্যামনগর মহসিন কলেজ থেকে ভেটখালি সম্প্রসারণ করা হবে সড়কটি। প্রকল্পটির কার্যাদেশে বলা আছে, ৩০জুন ২০২৬সালের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। যদিও প্রকল্পের মোট মেয়াদ পাঁচ বছর, ইতোমধ্যেই তিন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। যদিও কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু তা কবে শেষ হবে তার নেই কোন জবাবদিহিতা। তাছাড়া সড়কটি জেলার একটি আলাদা অঞ্চল হওয়ায় এখানে ঠিকমত তদারকি হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরু হলে সড়কের পানি ছিটানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারের কর্মচারীরা কোন কিছুর তোয়াক্কা ছাড়া কাজ করে যাচ্ছেন। এতে করে সড়কে ব্যাপক ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়েছে। একটি যানবহন পার হলে রাস্তা জুড়ে ধুলাবালি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। পথচারী, ছোট যানবহন ব্যবহারকারীরা পড়ছে ব্যাপক দূর্ভোগে। তাছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নদীর বালু দেওয়ার পরিবর্তে দিচ্ছেন নিন্মমানের পুকুরের বালু। যাতে প্রচুর পরিমানে কাঁদামাটি যুক্ত। এছাড়া রাতের আধারে সিসি ও আরসিসি ঢালায় দেওয়া হচ্ছে, যেখানে থাকছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত এই সড়কটি যেনতেন ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। যা এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বলি হতে বসেছে। এমনকি সড়কটি দিয়ে সুন্দরবন যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ পথ। যা সারাবিশ্বের মানুষের আকর্ষণ। কিন্তু দায় সারা ভাবে কাজ হওয়ায় চিন্তার ভাজ কপালে। এমনকি অনেক স্থানে নির্মানকৃত কালভাট খুলে দেওয়া হয়েছে। যেখানে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটলের চির ধরেছে। এখন প্রশ্ন নির্মানের আগে যদি ফাটল দেখা দেয় তাহলে এর স্থায়ীত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। আবার অনেক সচেতন মানুষ রাস্তার অনিয়ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নজর কাড়ার দাবি জানালেও কোন এমপিকে রাস্তার অনিয়ম খোঁজ নিতে দেখা যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠেছে সংসদ সদস্যদের কাজ কি শুধু সংসদে কথা বলা। জনগনের ভোগান্তি কমাতে এবং রাস্তার অনিয়ম রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন। নতুবা জনগন ফুঁসে উঠলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে সময় লাগবে না।

লেখক: মীর খায়রুল আলম, সংবাদকর্মী।

আরও খবর