নিজস্ব প্রতিনিধি ১৩ জুন ২০২৬ , ৪:০৭:১৩ অনলাইন সংস্করণ
ভারত থেকে অবৈধ পুশ-ইনের আশঙ্কায় সাতক্ষীরা সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণও যৌথভাবে পাহারা দিচ্ছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (১০ জুন) নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
এছাড়া সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করে পুশ-ইনের প্রস্তুতির খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়। বিশেষ করে কলারোয়ার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও চন্দনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ সীমান্তের কিছু অংশ মাদক ও চোরাচালানকারীদের অবৈধ যাতায়াতের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি পুশ-ইনের আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাও সক্রিয় রয়েছে।
নদী সীমান্তের তুলনায় স্থল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেশি থাকায় চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়া সীমান্তে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বিওপির অধীনে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’
সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘হ্যান্ড মাইকে সচেতনতা প্রচার করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ পাহারা রয়েছে। রাতের বেলায় টর্চলাইট ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুশ-ইন প্রতিরোধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) সীমান্তের বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করেছে। মোটরসাইকেল ও এটিভির মাধ্যমে নিয়মিত এবং অতিরিক্ত রাত্রিকালীন টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী নদীতে হাইস্পিড বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে দুই সেকশনের একটি কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন বলেন, ‘সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’
নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব (পিএসসি) বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশ-ইন অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

















