মো. শাহাদাত হোসেন, ব্রহ্মরাজপুর প্রতিনিধি ২০ জুন ২০২৬ , ৪:৫৯:৩৮ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৃত কায়েম আলী সরদারের উত্তরাধিকারীরা। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুন) ব্রহ্মরাজপুর বাজারস্থ বিডিএফ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত কায়েম আলী সরদারের ছেলে আব্দুল গফফার এবং মেয়ে শিরিন বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগম। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তাহমিনা খাতুনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মৃত কায়েম আলী সরদার মৃত্যুকালে এসএ খতিয়ান নং-১৩ এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯-এর আওতাধীন মোট ১৮২ শতক জমি রেখে যান। তার পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে ওই সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী।
তারা জানান, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তিন ভাই—আব্দুস ছাত্তার, গোলাম বারী ও গোলাম সিদ্দিক তাদের প্রাপ্ত অংশ থেকে এসএ খতিয়ান নং-৬৮ এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯ ও ১৫৮/১৬০-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ৩৫ শতক জমি রবিউল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। এর মধ্যে বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯-এর ২২ শতক এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৬০-এর ১৩ শতক জমি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিক্রয়কৃত জমির কোনো আপোষ বণ্টননামা বা সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ না থাকা সত্ত্বেও রবিউল ইসলাম বেআইনিভাবে বিআরএস দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর সম্পূর্ণ জমি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিক্রয়কৃত ৩৫ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ না করে উত্তরাধিকারীদের দখলীয় সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর জমিতে উত্তরাধিকারীরা ও তাদের তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে মারধর, খুন-জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, চলমান পরিস্থিতির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিআরএস দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা বন্ধ, বৈধ উত্তরাধিকার ও দখল নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদান, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

















