সাতক্ষীরা

সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি আবুবকর ও বৃদ্ধা নানির পাশে জেলা প্রশাসন

  সাহাদাত হোসেন রাজ ৩ আগস্ট ২০২৬ , ৪:২২:৩২ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের জন্মগত শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিক (২৫) এবং তার ৭০ ঊর্ধ্ব নানি সোনাভান বিবির মানবেতর জীবনযাপনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পরপরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মাধ্যমে অসহায় পরিবারটির জন্য নগদ অর্থসহ দুই বান টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ধুলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামে আবুবকর সিদ্দিকের বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সহায়তা তুলে দেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিছার উদ্দিন মনি, সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর, ইউপি সদস্য মো. আনিছুর রহমান, মিনহাজ মোর্শেদ, দৈনিক বাংলার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও আকবর আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবু সাঈদ, বিডিএফ প্রেসক্লাবের সভাপতি জি. এম. আমিনুল হক এবং সাংবাদিক শামীম রেজা, মেহেদী হাসান শিমুল, ইমরান হোসেন, এম. এম. জয়নাল, শরিফুল আলম রানা, মুস্তাকীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উল্লেখ্য, জন্মগত শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিককে দীর্ঘ ২৩ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে লালন-পালন করেন তার মা হাসিনা খাতুন। কিন্তু দুই বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হলে আবুবকর সম্পূর্ণভাবে তার বৃদ্ধা নানি সোনাভান বিবির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। আয়-রোজগারের কোনো উপায় না থাকায় দুজনই চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

তাদের সেই অসহায় জীবনসংগ্রামের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের দ্রুত মানবিক উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সহায়তা শুধু এককালীন নয়, ভবিষ্যতেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যাতে আবুবকর ও তার বৃদ্ধা নানি নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

আরও খবর