‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৫।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, “দেশি ফলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে দেশি ফলভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। কৃষকরা যদি দেশি ফল চাষে আগ্রহী হন, তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বাড়বে আয়ের উৎস।” তিনি আরও বলেন, “দেশি ফলের চাষে খরচ কম, কিন্তু লাভ বেশি। পরিবেশবান্ধব কৃষি ও টেকসই পুষ্টির জন্য দেশি ফল চাষে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই মেলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত দেশি ফল ও নতুন ফলের জাত প্রযুক্তি কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করাই এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন HUID এগ্রিকালচারের পরিচালক রফিকুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার। রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশি ফল খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়। বিদেশি ফলের চেয়ে দেশি ফলের উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং সহজলভ্য। আমরা চাই প্রতিটি পরিবার অন্তত একটি করে দেশি ফলের গাছ লাগাক।”
কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, “এই মেলার মাধ্যমে নতুন কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই এখন ফল চাষে ঝুঁকছেন, বিশেষ করে আম, পেয়ারা, লটকন, আমড়া ও জলপাইয়ের দিকে।”
মেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৩০টি স্টল অংশ নিয়েছে। স্টলগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, বেল, ডালিম, লটকন, জলপাই, চালতা, তেঁতুলসহ বিভিন্ন দেশি ফল এবং ফলের চারা। সঙ্গে রয়েছে জৈব সার, টবে ফল চাষ প্রযুক্তি, গ্রাফটিং কৌশল ও ক্ষুদ্র কৃষি যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী।