নিজস্ব প্রতিনিধি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ২:১৪:৫০ অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক মোঃ সিফাত উল আলম। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রকৃত দায়িত্ব হলো মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে পুলিশকে কাজ করতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে নয়।”
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আল-আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুঃশাসনে সাতক্ষীরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শহর শিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ আল মামুন। সঞ্চালনা করেন শহর সেক্রেটারি মেহেদী হাসান।
সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরায় জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের উপর হত্যা, খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, নির্যাতনসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন সংঘটিত হয়েছে।
বক্তব্য দেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তালেব, মোঃ আব্দুল গফুর ও মোঃ আনিসুর রহমান। নির্যাতিত পরিবার ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শহীদ আবু হানিফ ছোটনের পিতা মোঃ শহর আলী, সাবেক কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক আমিনুর রহমান ও স্পোর্টস সম্পাদক মোঃ আল আমিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—জেলা সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম, শহর অফিস সম্পাদক মোঃ নুরুন্নবী, অর্থ সম্পাদক মোঃ আরিফ বিল্লাহ, সাহিত্য সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, এইচআরডি সম্পাদক আল রাজীব, প্রকাশনা সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, দাওয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহা. শারাফাত হুসাইন লিটিল, গবেষণা সম্পাদক মোঃ আফজাল হোসেন, তথ্য ও মিডিয়া সম্পাদক মুহা. মাসুদ রানা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক হাফেজ ওয়ালীউল্লাহ, বিতর্ক সম্পাদক মোঃ মোর্শেদুল ইসলাম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মোঃ আতিক মুজাহিদ, মাদ্রাসা সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ এবং মানবসেবা সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন।
প্রধান অতিথি সিফাত উল আলম বলেন, “আওয়ামী দুঃশাসনে বাংলাদেশ একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। তখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা বলে কিছুই ছিল না।”
তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন ১. প্রত্যেক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা। ২. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ৩. বাংলাদেশের পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার করা, যেন তারা কোনো দলের ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হতে পারে।

















