সাতক্ষীরা

তীব্র শীতে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা, ফুটপাতে ক্রেতার ভিড়

  মনিরুল ইসলাম ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:২৮:৫১ অনলাইন সংস্করণ

শহরের পাকাপোল মোড় থেকে ছবি তুলেছেন জি.এম তাওসিফ হোসেন।

তীব্র শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় শীতবস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ে দেখা গেছে ব্যাপক সাড়া। বিশেষ করে শহরের বড় বাজার, পাকাপুলের মাথা, শহীদ নাজমুল সরণি সড়ক এলাকায় গরম কাপড়ের দোকান, ফুটপাতের স্টল ও হকাররা এখন ক্রেতায় টইটম্বুর। বিকাল থেকে রাত অবধি গরম কাপড় কেনাবেচা জমে উঠেছে, আর ক্রেতাদের পদচারণায় বেচাকেনা বেড়েছে ফুটপাতের দোকানীদের।
গত কয়েকদিন ধরে জেলায় কনকনে ঠান্ডা হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ে। এতে করে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের ঢল নামে। বড় বাজারের পাকাপুলের মাথা এলাকায় গেলে দেখা যায়, দোকানীগুলোতে সারি সারি শীতবস্ত্র সাজানো, মাঝে মাঝে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি চলছে। কেউ চাদর খুঁজছেন, কেউ সোয়েটার-জ্যাকেট কিংবা হাত মোজা-পাগড়ি, কেউ আবার শিশুর শীতবস্ত্র দেখছেন।
বড় বাজারের গরম কাপড় বিক্রেতা মোঃ আবুল বাশার বলেন, “এবার শীত একটু দেরিতে পড়লেও গত সপ্তাহ থেকে বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। গত দুই দিনে যত বিক্রি হয়েছে, তা প্রায় দেড় সপ্তাহের সমান। বিশেষ করে চাদর আর সোয়েটার বেশি যাচ্ছে। দাম একটু বাড়তি হলেও ক্রেতারা কিনছেন।” তিনি আরও জানান, পাইকারি বাজারেও শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি রাখতে হচ্ছে।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, “শীত বেশি থাকলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরা দুই-চার টাকা বাড়তি কামায়। বিকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিক্রি করি। কিছুটা কষ্ট হলেও বিক্রি ভালো হলে দিনটা আনন্দেই যায়। মানুষ দর কষাকষি বেশি করে, তবে শেষে বেশিরভাগই কিনে যায়।”
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার গৃহিণী নুসরাত জাহান বলেন, “শীত এবার বেশ কষ্ট দিচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য সোয়েটার নিতে এসেছি। দাম একটু বেশি মনে হলেও শীত ঠেকাতে তো কিনতেই হবে। মান দেখে যেটা ভালো লাগবে সেটাই নেব।” একই এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের মতো ছাত্রদের বাজেট কম, তাই ফুটপাতের দোকানই ভরসা। এখানে মোটামুটি ভালো মানের জ্যাকেট ৪০০-৮০০ টাকায় পাওয়া যায়, দরদাম করলে আরও কমে পাওয়া যায়।”
শহর ঘুরে দেখা যায়, হাত মোজা, টুপি, কানঢাকা, শাল, কম্বল, সোয়েটার, জ্যাকেটের স্টলে ভিড় লেগেই আছে। অনেক দোকানদার আবার অফার ঘোষণা করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছেন। কেউ দুইটি কিনলে একটি ফ্রি, আবার কেউ ১০-২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন। ফলে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
শহরের ক্রেতা রবিউল হাসান, একজন দিনমজুর, বলেন, “আমরা কাজ করি মাঠে-ঘাটে, সকালে ঘর থেকে বের হতে খুব কষ্ট হয়। শীতবস্ত্রের দাম একটু কম হলে ভালো হতো। তবুও যা পারছি, নিজের মতো কিনে নিচ্ছি।” তিনি একজোড়া হাতমোজা ও একটি পাগড়ি কিনে নিয়ে জানান, শীতের তীব্রতা কমতে আরও ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে তার ধারণা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় জেলা হওয়ায় সাতক্ষীরায় উত্তর দিকের হিমেল হাওয়া এসে শীতকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে তীব্র শীতে সাতক্ষীরা শহরে শীতবস্ত্র কেনাবেচা এখন জমজমাট, আর বাজারের এই সরব পরিবেশ শীতের কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে অনেকের মনে।

আরও খবর