সাতক্ষীরা

১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’ জাতীয় ঘোষণার দাবিতে র‌্যালি

  ডেস্ক রিপোর্ট ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:১৫:০৬ অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে ঘোষণা ও সরকারিভাবে পালনের দাবিতে সাতক্ষীরায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটি, সাতক্ষীরা’র উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী। সভা সঞ্চালনা করেন স্বদেশ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং আলোচনা পত্র উপস্থাপন করেন সিডো সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস।
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভূতত্ত¡ বিভাগের প্রভাষক মো. ওয়ালিউর রহমান, শিক্ষাবিদ আ. হামিদ, তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুবেল হাসান, ক্রীসেন্ট সংস্থার পরিচালক আবুজাফর সিদ্দীকি, বজলুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আ. সামাদ, নদী বন ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, টিআইবি সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক আমিনুর রহমান, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির আবুল কালাম, যুব প্রতিনিধি হৃদয় মন্ডল, তারিকুল ইসলাম অন্তর, সম্রাট হোসেন, রাফাত হোসেন, ইমতি জামিল, রাহাত খান, তহমিনা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সুন্দরবন একাডেমি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বারসিক, স্বদেশ, সিডো, হেড, তরুণ যুব সংঘ, ক্রীসেন্ট, সৃজনী, টিআইবি, সুশীলন, লিডার্স ও প্রথম আলো বন্ধুসভার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। দারিদ্র্য ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সংলগ্ন লোকালয়ের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের অন্যতম বৃক্ষ সুন্দরী গাছ ‘আগামরা’ রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্তির পথে। বন্যপ্রাণীর অবৈধ শিকার নিয়ন্ত্রণহীন। প্রভাবিত লোকালয়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ভূগর্ভস্থ পানির দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পশুর চ্যানেল ছাড়াও বনের অভ্যন্তরের অন্যান্য নদীপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইকো-ট্যুরিজমে নিয়মনীতি উপেক্ষা ও বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার সুন্দরবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুকনো মৌসুমে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা ১৪ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা ও সরকারিভাবে পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দরবন গবেষণার জন্য পৃথক বিভাগ চালুর দাবি তোলেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ ও সব ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় নতুন সরকারের কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সুন্দরবন বিধ্বংসী কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।

আরও খবর