এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ১০ মে ২০২৬ , ৩:১৫:০৭ অনলাইন সংস্করণ
প্রতিকূল লবণাক্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা কাটিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাটার শেষ সময়ে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে আংশিক ক্ষতি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ এবং হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মুখে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমি। তবে কৃষকদের আগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এবার হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাওয়া গেছে ৬ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ধান, যা গত বছর ছিল ৬ দশমিক ৩ মেট্রিক টন। চালের হিসেবে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন।
উপজেলার রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, কাশিমাড়ী, কৈখালী ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নে ব্রি-৬৭, ব্রি-৯৯ ও এসএল-০৮ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী এলাকার কয়েকজন চাষি জানান, তারা প্রতি বিঘায় ১৪ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।
তবে ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ১৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রমজাননগর এলাকার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমার তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘার ধান পানির নিচে চলে গিয়েছিল। তারপরও অন্য জমির ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।”
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মণ্ডল জানান, মাঠের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কৃষকেরা ঘরে তুলেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে বোরো আবাদ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। উপজেলায় ২৭৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদর ও নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে।

















