তালা প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৫ , ৪:১২:৫১ অনলাইন সংস্করণ
অতিবৃষ্টির কারণে এবছর সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। তবে গত কয়েক বছর ধরে এ চাষে সাফল্য পাওয়ায় এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে তালার তেঁতুলিয়া ও ভায়ড়া গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের ক্ষেতে মাচায় ঝুলছে শত শত তরমুজ। মধুমালা, ব্ল্যাক বেরি, কানিয়া (বাংলালিঙ্ক) জাতের এসব তরমুজের কোনোটি বাজারজাতের উপযোগী হয়েছে, আবার কোনোটি এখনও পরিপক্ব হয়নি। খেতেই এগুলো সুস্বাদু বলে জানান কৃষকরা।
তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্না বিশ্বাস জানান, কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছেন। এবছর ৮ শতক জমিতে চার জাতের তরমুজ চাষ করতে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টিতে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি। তার খেতে প্রতিটি তরমুজের ওজন ২ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত। আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারজাত শুরু হবে এবং প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা দরে মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নেবেন বলে আশা করছেন তিনি।
এছাড়া স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম ১২ শতক জমিতে এবং রাসেল ১৩ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের মতো আরও অনেকে ধান ও পাটের দীর্ঘমেয়াদি চাষ বাদ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় বলে তরমুজ চাষে ঝুঁকেছেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, “ধান ও পাট তুলতে চার মাসের বেশি সময় লাগে, কিন্তু তরমুজ মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়। এজন্য তরমুজ চাষ করে আমরা সাফল্য পাচ্ছি।”
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, “গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে লাভজনক সম্ভাবনা থাকায় কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। এবছর উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছু ক্ষতির শঙ্কা থাকলেও কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

















