সাতক্ষীরা

চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

  আলি হাসান, ভোমরা প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ , ৭:২০:৩১ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদারি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ তাসলিমা খাতুন (৩৬) দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তার গর্ভে চার মাসের সন্তানও ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লোকমান হোসেন মোড়লের ছেলে সাদ্দাম হোসেন মোড়লের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাদ্দাম তার প্রয়াত নানার বাড়ি লক্ষ্মীদারি গ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৮ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার ঘোষ জানান, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যে কিছুদিন আগে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। পরে সাদ্দাম সেই ছাগল চুরি করে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।

শনিবার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে তাসলিমার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যান।

রাত পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও খবর