আব্দুল মতিন ২৩ আগস্ট ২০২৫ , ১২:১৩:১২ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম হোসেন (৩৩) কে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন—যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কোন্দলপুর গ্রামের আবুবক্কার দফাদারের ছেলে ইজাজুল ইসলাম (৪৩) ও তালার বলরামপুর গ্রামের আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম সরদার (৩৮)। পুলিশ নিহত শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শামীম ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল গ্রামের গফফার শেখের ছেলে। তিনি দুই বছর আগে আঠারোমাইল বাজারে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। তাদের তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন শামীম ও তার পরিবার, প্রথম তলা ভাড়া দেওয়া ছিল, আর তৃতীয় তলা ফাঁকা থাকত। প্রায় ২৫ বছর আগে পরিবারসহ তালার উথালি গ্রাম থেকে আঠারোমাইলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা।
শামীমের মা রশিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রতিদিন রাতে বহিরাগত লোকজন আসতো বাসায়। তারা নেশা করতো, সাউন্ড বক্স বাজিয়ে উল্লাস করতো। পরিবারের কাউকে সেখানে যেতে দিত না। ঘটনার রাতে আজিজুল ও শরিফুল এসেছিল। তারা প্রায়ই আসতো। কেন আমার ছেলেকে হত্যা করলো আমি জানি না।”
শামীমের একমাত্র ছেলে তাজ (১২), পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র, জানান—“বাবার সাথে ওই দুইজন প্রায়ই থাকতো। আমি বাবাকে নিষেধ করতাম, কিন্তু তিনি কথা শুনতেন না।”
নিহতের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি বলেন, “স্বামীকে বহুবার নেশা ছাড়তে বলেছি। কিন্তু তিনি উল্টো আমাদের ধমক দিতেন। ঘটনার রাতে রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়।”
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ রানা জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শামীম হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শরিফুল ও আজিজুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।” তবে নিহতের পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

















